শনিবার ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
শনিবার ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গবাদিপশু লালন পালন অত্যন্ত লাভজনক

আজকের খবর। ব্রেকিং নিউজে।

মোঃ আব্দুস সালাম, গাজীপুর প্রতিনিধি:

গবাদিপশু পালন করা অত্যন্ত লাভজনক । গবাদিপশুর গবর আমাদের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় । এ ছাড়া ও গবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করা যায়, যা রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায় ।গবর দিয়ে কৃষকরা কমপস সার তৈরি করেন ।এ ছাড়া ও গবাদিপশু আমাদের মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণ করে । গবাদিপশুর চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। আমরা যারা বেকার আছি চাকুরীর পিছনে না ঘুরে দুই থেকে চারটি গবাদিপশু লালন পালন করলে চাকুরী সমতুল্য টাকা উপার্জন হবে । গবাদিপশুর খামার বা লালন পালন করার আগে যুবো উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিখন নিলে ভালো হয় । তবে নিম্ন লিখিত বিষয় গুলো অনুসরণ করলে খামারিদের সুবিধা হবে । গরু মোটাতাজা করন দানাদার খাবার ,কম সময়ে সুন্দর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে স্বল্পমূল্য নিচের খাবারের তালিকা অনুসরণ করতে হবে ।

প্রথম অবস্থায় ১০০ কেজির জন্য ৩ কেজি দানাদার খাদ্য প্রয়োগ করুন। ২০০ কেজির জন্য ৪ কেজি, ৩০০ কেজির জন্য ৫ কেজি। গরু যখন অনেকটা মোটাতাজা হয়ে যাবে তখন দানাদার খাবার অর্ধেক করে দিলেই হবে। দানাদার খাবারে ৫০% পানি দিয়ে মাখিয়ে দিবেন।
গরুকে কখনো ভাত বা খুদের জাউ খাওয়ানো উচিত নয়। কারন এতে অনেক গরুর পেটে গ্যাস সৃষ্টি হয়ে পেট ফুলে যায়।
১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য প্রতিদিন ৮/১০ কেজি কাঁচাঘাস খাওয়াবেন। যাদের আপদ কালীন সময়ে কাঁচাঘাস থাকেনা তারা সাইলেজ ব্যবহার করতে পারেন।
গরুকে প্রতিদিন গোসল করাবেন।
গরুকে UMS অথবা সাইলেজ খাওয়াবেন। শুধু UMS’র কারনে প্রতি দিন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম করে মাংস বাড়াতে সক্ষম। 

UMS খাওয়ানোর ১ ঘন্টা আগে ও পরে পানি খাওয়াবেন না।
শুধু শুকনো খড় না খাওয়ানোই ভালো। এতে পেট ভরলেও তেমন বেশি স্বাস্থ্য বাড়বে না। আর সাইলেজ খাওয়ালে তো খুবই উপকৃত হবেন।
গরুকে ওজন অনুসারে সুষম দানাদার, কাঁচাঘাস, UMS ব্যবহার করলে গরুকে কোন ভিটামিন ইনজেকশন, হরমোন ইনজেকশন বা ভিটামিন পাউডার ব্যবহার করার দরকার হয় না।

মোটাতাজা গরুর সহজ ১০০ কেজি খাবার তৈরীর নমুনাঃ-
গম > ২০ কেজি।
ভুট্রা > ২৪ কেজি।
ধান > ৩৫ কেজি।
যে কোন ডাল > ১০ কেজি।
সয়াবিন খৈল > ৫ কেজি।
সরিষা > ১ কেজি।
লইমষ্টোন পাউডার > ১ কেজি।
মোটা লবন > ১ কেজি।
চিটা গুড়/লালি > ৩ কেজি।
সর্বমোটঃ ১০০ কেজি।
(সাথে ২০০ গ্রাম কালোজিরা + করতে পারেন)
গম, ভুট্রা, ধান, ডাল, সরিষা, কালোজিরা এগুলো একসাথে মিশিয়ে ডাস্ট/ক্রাশ করে নিতে হবে। এই খাবারে আপনার খরচ অনেক কম পড়বে, মোটামুটি ৩২/৩৪ টাকার মধ্যে কেজি পড়বে বলে আশা করি।
চিটাগুড় ও লবন খাবারের সময় মিশিয়ে নিবেন সাথে মোট খাবারের অর্ধেক পরিমানে পানি।

সারাদিনে সকাল-বিকাল দু’বেলা খাবার দেওয়া উত্তম। এতে গরু বিশ্রামের সুযোগ পায়। গরুকে বডি ওজনের ১০% বেশী পানি খাওয়ানো উচিৎ নয়।
এতে অল্প সময়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। খাবার প্রতিদিন নিদিষ্ট সময়ে দেয়া ভালো। আর চাইলে সন্ধ্যার আগে সামন্য কিছু শুকনো খড় দিতে পারেন এতে গরুর সারারাত জাবর কাটতে সুবিধা হয়।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *