মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ফার্মেসি মালিকের বিরুদ্ধে ভূল ঔষধ খাইয়ে রোগী মেরে ফেলার অভিযোগ

আজকের খবর। ব্রেকিং নিউজে।

মাধবদী(নরসিংদী)প্রতিনিধি

মাধবদীর আব্দুল্লাহ বাজারের মা ফার্মেসি মালিকের বিরুদ্ধে ভূল ঔষধ খাইয়ে হাজী আব্দুল মজিদ মুন্সি নামে এক রোগীকে মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাজী আব্দুল মজিদ মুন্সি মাধবদী থানার নগরবানিয়াদী গ্রামের প্রবীণ ব্যাক্তি।
তার মৃত্যুর পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তার ছেলে ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে ফার্মেসি মালিক আরিফ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আপোষ মীমাংসা করে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে নিহতের লাশ দাফন করা হয়।
পরে দাফনের এক সপ্তাহ পার হলেও ফার্মেসি মালিক আরিফ তার ওয়াদা অনুযায়ী টাকা না দিলে তার ফার্মেসি তালাবদ্ধ করে রাখে নিহতের স্বজনরা । পরে গত বুধবার (২৫ জানুয়ারি) এ নিয়ে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারের মধ্যস্থতায় বাজারে বসে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান করে পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় ফার্মেসি খুলে দেওয়া হয়।
এ খবর এক কান দুই কান করে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নিন্দার ঝড় ওঠে।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েকদিন পূর্বে হাজী আব্দুল মজিদ মুন্সির থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়। পরে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখালে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ লিখে দেন।
বাড়িতে এসে স্থানীয় আব্দুল্লা বাজারের মা ফার্মেসি মালিক আরিফ এর কাছ থেকে ঔষধ এনে তার দেওয়া নিয়মানুসারে প্রতিদিন দুটি করে ট্যাবলেট খাওয়ানো শুরু করে। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ঔষধ খাওয়ার পর রোগীর অবস্থা আরো জটিল আকার ধারণ করে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। পরে উপায়ন্তর না পেয়ে পুনরায় তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে তার লেখা ঔষধ সেবনের পর রোগীর অবস্থা জটিল হয়েছে বলে জানান।
কিন্তু চিকিৎসক তার লেখা ঔষধ খেয়ে রোগী এমন হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে তাকে খাওয়ানো ঔষধের পাতা দেখতে চান। পরে তাদের দেখানো ঔষধ দেখে চিকিৎসক আৎকে উঠেন।
কারণ ফার্মেসি মালিক রোগীকে তার লেখা ঔষধ না দিয়ে দৈনিক ২টি করে ক্যান্সারের ঔষধ খাইয়ে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক করে ফেলেছে। এ দেখে
তিনি সময়ক্ষেপণ না করে রোগীকে দ্রুত ঢাকা পাঠিয়ে দেন। ঢাকায় একদিন চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে রোগীকে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দিলে গত বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের ছেলেরা বিষয়টি সব জানার পর ও ফার্মেসি মালিকের সাথে আঁতাত করে কাউকে কিছু না জানিয়ে পরদিন শুক্রবার তার পিতার দাফন সম্পন্ন করেন।
এঘটনায় নিহতের ছেলে ও ফার্মেসি মালিক আরিফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন এলাকাবাসী।
এব্যাপারে ফার্মেসি মালিক আরিফের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার ভূল স্বীকার করে বলেন, থাইরয়েড ও ক্যানসারের ঔষধ দুটির নাম প্রায় কাছাকাছি। তাই আমি ভূলবশত একটির জায়গায় অন্যটি দিয়ে ফেলেছি। কয়েক বার ঔষধটি নেওয়ার পর ও বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে এব্যাপারে নিহতের ছেলের সাথে বসে আপোষ মীমাংসার আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ নিহতের ছেলে জয়নালকে নিয়ে দু’একদিনের মধ্যে বসে এর সমাধান করা হবে বলে ও জানান তিনি।
টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নাল কাজী ভূল ঔষধ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার ব্যাপারে আপনারা যা শুনেছেন তা ভূল। ফার্মেসি মালিক তার অপরাধ ঢাকতে আপনাদেরকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তিনি তার পিতার কুলখানির পর তার আত্মীয়স্বজন নিয়ে বসে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *