বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ,অবরোধ মহাসড়ক

মোঃ আব্দুস সালাম গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
গাজীপুরের মৌচাক ও কোনাবাড়ি এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংর্ঘষ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুর চালায় এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়েছে।

২৩ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার মৌচাক তেলিরচালা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জুতা, ওষুধসহ পাঁচটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে দুপুর ১ টার দিকে মৌচাক তেলিরচালা এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। প্রথমে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ছুঁড়ে, পরে পুলিশ কাঁদানো গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ-সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে বেশকিছু গাড়ি।

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার তেলিরচালা এলাকার পূর্বানী গ্রুপের করিম টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরা সর্বনিম্ন বেসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ (সোমবার) সকাল ৯ টায় কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময়ে আশপাশের লগোজ অ্যাপারেলস, হাইড্রো অক্সাইড সোয়েটার কারখানা, এপিএস অ্যাপারেলস, বে ফুটওয়ার কারখানার শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে ওই মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই পথে চলাচলকারীরা। সকাল ৯ টা থেকে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লিবিদুৎ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০/১৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

আন্দোলনরত একাধিক শ্রমিক বলেন, আমাদের হেলপারের বেতন ৮ হাজার এবং সুপারভাইজারের বেতন ১১ হাজার টাকা ২০১৮ সাল থেকে। এরপর আর কোন বেতন বাড়ানো হয়নি। দ্রব্যমূল্যের যে দাম তাতে আমাদের জীবন চলছে না। এক কেজি মুলার দাম ৮০ টাকা, ১ কেজি সিমের দাম ১২০ টাকা। গ্যাসের দাম বেড়েছে, বাসা ভাড়া বেড়েছে। আমাদের বেতন ২৩ হাজার করতে হবে৷ এটাই আমাদের দাবি৷ এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করে যাব, পুলিশ যতোই আমাদের উপর আক্রমণ করুক- আন্দোলন চলবেই।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মইনুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন চলছেই। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *