শনিবার ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
শনিবার ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চাহিদা মত টাকা না দেওয়ায়,মামলার শিকার হয়েছে ব্যবসায়ী

আজকের খবর। ব্রেকিং নিউজে।

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ

বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে চাহিদা মত টাকা না দেওয়ায় একটি বুনো শুকুরের হামলার কারণে পথে বসার উপক্রম হয়েছে কয়রায় এক ব্যবসায়ী পরিবারের। শুধু ওই পরিবার নয় ওই কর্মকর্তা কে চাহিদা মত টাকা না দেওয়ায় মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে আরো অনেক নিরীহ মানুষ। ওই কর্মকর্তার এহেন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিগণ।
গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায় গত ১৪ জুন ২০২২ রাত আটটার দিকে উপজেলার সুন্দরবন বেষ্টিত দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর পাশে দিব্য এন্টারপ্রাইজ নামের কাঁকড়া হ্যাচারিতে একটি বন্য শুকর প্রবেশ করে ব্যবসায়ীর বৃদ্ধ মাতা নমিতা সরকারের পায়ে কামড় দেয়। তার চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করানো হয়। পরে গ্রামবাসী শুকরটিকে বনে ফেরাতে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে শুকোর টি মারা যায় । রাত দশটার দিকে কোবাদক স্টেশন থেকে বন বিভাগের লোকজন এসে মৃত শুকরটিকে বন্য বলে দাবি করে তারা সেটা নিয়ে যায়। ওই সময় হ্যাচারী পরিচালক বিপুল সরকার মায়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকায় ফিরে এলে তাকে স্টেশনে গিয়ে দেখা করার জন্য বাড়ির লোকজনকে বলে যায়। একদিন পর ব্যবসায়ী বিপুল সরকার কোবাদক স্টেশনে গেলে স্টেশন কর্মকর্তা বলে তোমার কাকড়া ডিপো আছে হ্যাচারী আছে প্রত্যেক ডিপো মালিক নিয়মিত মাসোহারা দেয় তুমি কেন দাও না বলে তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে এই মামলায় তাকে ফাঁসানো হবে বলে ভয় দেখানো হয়। তার চাহিদা মত টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তিনি স্টেশন থেকে ফিরে এসে স্থানীয় গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা তাকে অভয় দিয়ে বলেন আমরা তোমার পাশে আছি মামলা হলে আমাদের সবার হবে তোমার কোন টাকা দেওয়ার দরকার নেই। কয়েকদিন পর জানতে পারি আমাকে ও আমার পিতা দয়াল সরকারকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে পুনরায় ব্যবসায়ী কাজে ফিরে আসি। আট মাস পরে অর্থাৎ গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে ঘড়িলাল বাজারে আমার দিপু এন্টারপ্রাইজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে এসে পুলিশ আমাকে আটক করে নিয়ে যায় পরে জানতে পারি আমাকে অবৈধভাবে সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া আহরণের অপরাধে আরো একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসলে আমি এই মামলা সম্পর্কে ও কিছুই জানিনা তাছাড়া আমার বাড়ির পাশে সুন্দরবন হলেও আমি কখনো সুন্দরবনের প্রবেশ করি নাই। আমি বৈধভাবে সরকারের সকল রাজস্ব পরিশোধপপূর্বক সরকারের কাছ থেকে অনুমতি সাপেক্ষে বৈধভাবে স্থানীয় ঘড়িলাল বাজারে দিপু এন্টারপ্রাইজ নামে কাকড়া ডিপো এবং দক্ষিণ বেদকাশী মৌজারে ৩.৩০ একর জমিতে দিব্য এন্টারপ্রাইজ নামে কাঁকড়া হ্যাচারী করে কাঁকড়া উৎপাদন ও বাজারজাত করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। এখন একাধিক মামলায় হাজিরা দিতে দিতে ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে। একদিকে বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা কে বুনো শুকুরের মামলায় চাহিদা মত টাকা ও কাকড়া ডিপোর নিয়মিত মাসোহারা না দেওয়া অপরদিকে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন জায়গায় জানাজানি হওয়ায় ক্ষুব্ধ ওই কর্মকর্তা তার হুমকি অব্যাহত রেখেছে তাদের সাথে মীমাংসা না করলে আরো মামলায় তাকে ফাঁসানো হবে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। ফলে বারবার মিথ্যা মামলায় আসামি হওয়ার ভয়ে আতঙ্কে রয়েছে ব্যবসায়ী পরিবারটি। দক্ষিণ দেবকাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আছের আলী মোড়ল বলেন, গত কয়েক মাস আগে বন্য একটি শুকুর আমার ইউনিয়নের মধ্যে ঢুকেছিল শুকুরটিকে বনে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য গ্রামবাসীরা চেষ্টা করেছিল অনেক চেষ্টার পরে ও যে কোনভাবে শুকরটি মারা যায় পরে জানতে পারি এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী বিপুল সরকার ও তার পিতাকে আসামি করা হয়েছে আমার জানামতে বিপুল সরকার একজন ভালো ব্যবসায়ী তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করেই সংসার নির্বাহ করে থাকে তাছাড়া বন্য শুকরটি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে সন্ধ্যায় ওই গ্রাম থেকে কোবাদক স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার সেখান থেকে পায়ে হেঁটে এলেও সময় লাগে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট বনবিভাগ যদি তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত হত হয়তো বন্য শুকরটিকে প্রাণে মরতে হতো না। ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন শুধু বিপুল সরকার নয় আমার ইউনিয়নের অনেক নিরীহ মানুষ যারা কখনো সুন্দরবনে প্রবেশ করেনি তাদের কে ও রাগের বশবর্তী হয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা। চেয়ারম্যান বলেন আমি এ সকল বিষয়ে তার সাথে কথা বলার জন্য বারবার দেখা করার চেষ্টা করেও তিনি আমাকে ভুরুক্ষেপ করছে না।
এ সকল ব্যাপারে জানতে কোবাদক স্টেশনে গিয়ে স্টেশন কর্মকর্তা মো: ফারুকুল ইসলাম এর সাথে দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তার ব্যবহৃত 01724625440 মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও তিনি রিসিভ করেনি।

Spread the love