সোমবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
সোমবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সরাসরি ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ বুধবার জাতীয় দৈনিক দিনকাল বন্ধের প্রতিবাদে সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

আজকের খবর। ব্রেকিং নিউজে।

মোঃ আব্দুস সালাম গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের একমাত্র সংবাদপত্র দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা বন্ধের পরও পত্রিকাটি আবারো চালু করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন মালিকপক্ষ। তারা বলছেন যে, এরইমধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিবর্তে অন্য আরেকজনকে পত্রিকাটির প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার আবেদন করা হয়েছে। দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, “এই পত্রিকাটা চালু রাখার জন্য আমরা সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাবো।” গত ২৬শে নভেম্বর, ‘প্রকাশক কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করায়’ পত্রিকাটির প্রকাশনা বাতিলের আদেশ জারি করে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। পরে পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ গত ২৯শে ডিসেম্বর এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। একই সাথে তারা প্রকাশনাও চালিয়ে যায়। গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা বন্ধের বিরুদ্ধে করা আপিলটি বাতিল করে দেয়। সেদিনই অনলাইনে পত্রিকাটির সবশেষ সংস্করণ বের হয়। এর পর থেকে আর সেখানে নতুন কোন খবর প্রকাশিত হয়নি। দৈনিক দিনকাল আবারো প্রকাশ করা হবে কিনা তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি পত্রিকাটির সাথে সংশ্লিষ্টরা। পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, এরই মধ্যে নতুন প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব নিতে আবেদন করেছেন বিএনপি নেতা আহমেদ আজম খান। গত ১৫ই জানুয়ারি এ বিষয়ে যথাযথ ফর্ম পূরণ করে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং প্রেস কাউন্সিলে জমা দেয়া হয়েছে। একই সাথে তারেক রহমান যে পত্রিকাটির প্রকাশকের পদ ছাড়ছেন সেটির আবেদনও যথাযথ ফর্ম পূরণ করেই জমা দেয়া হয়েছে। তবে তারপরও তাদের আপিল বাতিল করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ডিসি সাহেবরা একটা নির্দেশনা দিয়ে দিনকাল চালু রাখতে পারতো, কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনাতেই এটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি।” দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, দিনকাল আবারো চালু হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত একেবারেই সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। তিনি জানান, দিনকাল আবার আসতে হলে কিছু জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পত্রিকাটি বন্ধ হওয়ার তিন মাস পর সেটি আবার চালু করতে নতুন একজন প্রকাশক আবেদন করবেন। পত্রিকাটির নতুন প্রকাশক হতে ইচ্ছুক আহমেদ আজম খান বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং তিনি দলটির বিভিন্ন সভাসমাবেশে সরকারি বিরোধী বক্তব্যও দিয়েছেন। এজন্য মি. সিদ্দিকী মনে করেন যে, এ কারণে তাকে পত্রিকাটি প্রকাশের অনুমতি নাও দেয়া হতে পারে। ফলে এই পত্রিকাটি আবার আসবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে বলে মনে হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, কোন পত্রিকার প্রকাশক যদি একটানা ছয় মাসের বেশি দেশের বাইরে থাকেন তাহলে তাকে তার দায়িত্ব অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে হয়। বলা হচ্ছে, দিনকালের ক্ষেত্রে এই আইনের ব্যতিক্রম হয়েছে কারণ প্রকাশক তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে দেশের বাইরে। তবে তিনি বাধ্য হয়েই দেশের বাইরে রয়েছেন উল্লেখ করে মি. বিশ্বাস বলেন, “আমাদের প্রকাশক দেশের বাইরে আছেন কী কারণে সেটা দেশবাসী সবাই জানে।” ২০১৬ সালে যখন একটি মামলায় যখন তারেক রহমানকে দণ্ড দেয়া হয় তখন তিনি একটি এফিডেভিট করে প্রকাশকের দায়িত্ব দেন আহমেদ আজম খানকে। এই নথি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর জন্য জমা দেয়া হয়েছিল যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনে। যা এখনো জেলা প্রশাসন পায়নি বলে জানা যায়। মি. বিশ্বাস বলেন, “ওনারা এই চিঠিটা আজকে ছয় বছরের মধ্যে পাঠায়নি, এটা কোন গুরুত্ব দেয়নি।” পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, “কোন কিছু হাই কমিশন অথেনটিকেট করে না পাঠালে সেটা লিগ্যালি গ্রহণ করছে না ডিসি অফিস।” যার কারণে এই জটিলতায় পড়ে শেষমেশ পত্রিকাটি বন্ধ করারই নির্দেশ এসেছে। এছাড়া ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের প্রকাশনা শাখা থেকে ২৬শে ডিসেম্বর যে চিঠি দিনকাল অফিসে পাঠানো হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, “পত্রিকাটির প্রকাশক কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায়, ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিসের ঠিকানা ও ছাপাখানা পরিবর্তন করায় তারেক রহমানের নামে পত্রিকা মুদ্রণের যে ঘোষণাপত্র দেয়া হয়েছিলো তা বাতিল করা হলো”।

Spread the love