মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পাবনার ঈশ্বরদীতে রেল ভুমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আজকের খবর। ব্রেকিং নিউজে।

মোঃ আব্দুস সালাম গাজীপুর প্রতিনিধি:

ঈশ্বরদী বাজার সংলগ্ন মাহাবুব আহমেদ স্মৃতি মঞ্চ সহ রেলের জমির উপর গড়ে ওঠা প্রায় ১৬ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়।

এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ ও পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা(নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট)মোঃনুরুজ্জামান।

৮০ দশকে নির্মিত ঐতিহাসিক মাহাবুব আহমেদ স্মৃতি মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলায় স্থানীয়রা জানান, ধর্মীয় এবং সংস্কৃতির হাজারও স্মৃতি নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে ছিল এই মঞ্চটি। এটি ঈশ্বরদী শহরের একমাত্র মুক্ত মঞ্চ হিসেবেই পরিচিতি ও ব্যবহৃত হতো। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মানুষের অশেষ ভালোবাসা লেগে আছে মঞ্চের প্রতিটি বালুকনায়। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নানা সংগঠনের সভাসহ অনেক অনুষ্ঠান এই মঞ্চে করা হতো। এটি অন্য কোথাও স্থাপনের ব্যবস্থা করলে হয়তো থেকে যেত ঈশ্বরদীর মানুষের স্মৃতিবিজড়িত এই মুক্ত মঞ্চটি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস বলেন, এ মঞ্চের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঈশ্বরদীর রাজনীতির নানান স্মৃতি। দলীয় বড় বড় জনসভার পাশাপাশি এখানে সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠান হয়। এ মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলা হবে এটিতো আগে শুনিনি। মঞ্চ ভেঙে ফেলার কথা শুনে মর্মাহত হলাম।

উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, এখানে রেলের স্পেশাল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীদের দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১৫ দিন আগে বলা হয়েছে। দোকানদাররা মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। এখানকার ১৬টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেন, এটি রেলওয়ের গাড়ি পার্কিং এরিয়া। এ পার্কিং এরিয়ার আশপাশে অস্থায়ী লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রেলের উন্নয়ন কাজের জন্য অস্থায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

উচ্ছেদে ভেঙ্গে ফেলা ৩ দোকানের মালিক আলামিন হোসেন জানান, রেলের জায়গা রেল নিয়ে নিবে এতে আমাদের কিছু করার নেই। এ জায়গায় আমার ফলের দোকানসহ তিনটি দোকান ছিল। এসব দোকান উচ্ছেদের ফলে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন অন্য কোথাও দোকানপাট স্থাপনের ব্যবস্থা যেন করে দেয়।

জেনারেটর ব্যবসায়ী রকিবুল ইসলাম বলেন, ২৫ বছর ধরে এখানে জেনারেটর মেশিন বসিয়ে ব্যবসা করে আসছি। আজ উচ্ছেদ অভিযানে জেনারেটর মেশিন সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু কোথায় এ মেশিন বসাবো তা এখনো ঠিক করতে পারিনি।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *