মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে গাছে গাছে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

আজকের খবর। ব্রেকিং নিউজে।

মোঃ আব্দুস সালাম, গাজীপুর প্রতিনিধি:

প্রকৃতিতে ফাল্গুন আসতে আরও কিছুদিন বাকি। তবে এরই মধ্যে আমের জন্য খ্যাত রাজশাহীতে গাছে গাছে উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। সারি সারি আমের গাছে এখন সৌরভ ছড়াচ্ছে মুকুল। আম চাষিরাও পরিচর্যায় নেমেছেন বাগানে বাগানে। তবে পুরো মুকুল আসতে আরও ১৫ দিনের মতো সময় লাগবে।
এ বছর শীতের প্রভাব আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন মুকুলের ম-ম গন্ধ। যে কারও প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। কোনো গাছ থেকে ক্ষুদ্র আকারে মুকুল বের হচ্ছে, আবার কোনো গাছে পরিপূর্ণ মুকুল এসে গেছে। আর তাই শেষ মুহূর্তে বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল আনতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষী ও ব্যাবসায়ীরা ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, , মহানগরীর, পুলিশ লাইন, মেহেরচন্ডি ও ভদ্রা আবাসিক রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, চারঘাট, বাঘা এলাকায় আমগাছে মুকুল আসতে শুররু হয়েছে। সড়কের দুই ধারে সারি সারি আম বাগানের গাছে গাছে সোনা রং ধারণ করতে শুরু করেছে পুরিস্ফুটিত মুকুল।
জেলার বাঘা-চারঘাট ও পুঠিয়া, গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরা জানান, গত বছর অধিকাংশ বাগানে আমের ভালো ফলন হয়নি। তবে এ বছর বাগানে পরিপূর্ণ মুকুল আসতে শুরু করেছে । স্থানীয় আমচাষিদের মতে, এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে বিগত বছরের তুলনায় এবার আমের মুকুল ভালো হবে, এতে ভালো ফলন হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় ২০২১-২২ মৌসুমে ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে ১১ দশমিক ১৪ মেট্রিক টন এবং মোট উৎপাদন হয়েছিল দুই লাখ ছয় হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন। এবার জেলায় আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৯১ হেক্টর। তবে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াতে পারে।
বাঘার আমোদপুর গ্রামের আম চাষি শামসুল হক জানান, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৫-৬ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮-৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক লাগে। সে হিসাবে বাঘায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির আমগাছে বছরে প্রায় ৭ লাখ টাকার কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার হয়ে থাকে। যার কমতি হবে না এবারও।
এখানকার আমচাষিরা জানান, এ বছর সার, কীটনাশকের দাম বেড়েছে। বাগানের পরিচর্যার জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ করার একটি মেশিনের ভাড়া আগে ছিল ১৫০০-১৭০০ টাকা। কিন্তু এখন ২৩০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচের মূল্য ছিল ১০০-১২০ টাকা। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় প্রতি ঘণ্টায় ১২০-১৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
এ অঞ্চলে ৩৫ থেকে ৪০ জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। আর সারা বাংলাদেশে রয়েছে ২৫০ জাতের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফজলি, গোপালভোগ, মোহনভোগ, ন্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, হিমসাগর, কৃষাণভোগ, মল্লিকা, লক্ষণা, আম্রপলি, দুধসর, দুধকলম, বিন্দাবনী, আরজান, রাণী পসন, মিশ্রীদানা, সিঁন্দুরী, আশ্বিনাসহ নানা প্রকার গুটি আম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *